মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

শেরপুর উপজেলা পরিষদ

 

দেশের অন্যান্য এলাকার মতোই এ অঞ্চল পর্যায়ক্রমে গ্রাম পঞ্চায়েত/শালিস বোর্ড, ইউনিয়ন বোড, ইউনিয়ন পরিষদ দ্বারা বিভক্ত হয়ে আসছে।

 

     জামালপুর থেকে শেরপুর ব্রক্ষ্মপুত্র নদীতে জলপথে ১০ মাইল পারাপারের দশকাহন (কড়ি) পরিমাণ নৌকা ভাড়ার সূত্রে এ এলাকার নাম ছিল দশকাহনিয়া। মোগল আমলে সম্রাট আকবরের সময় সুবে বাংলার “বাজুহা” (বিভাগ) সরকার বাজুহার ৩২টি পরগনার অন্যতম বম্মপুত্রের উত্তর পূববর্তী পরগনার নাম হয় দশকাহনিয়া বাজু। অষ্টাদশ শতাব্দীর সূচনায় দশকাহনিয়া বাজুর জায়গিরদার গাজী বংশের শেরআলী গাজীর নামানুসারে এই দশকাহনিয়া বাজুর নাম হয় শেরপুর।

 

     মৌলভী বসিরুদ্দীনকৃত পারস্য ভাষায় লিখিত রামনাথের জমিদারি প্রাপ্তির বিবরণ অনুসরণ করে শ্রী বিজয় নাগ কর্তৃক রচিত “নাগ বংশের ইতিবৃত্ত” (১৩৩৬), অধ্যাপক দেলওয়ার  হোসেন রচিত “শেরপুরের ইতিকথা” (১৯৬৯), পণ্ডিত ফসিহুর রহমান লিখিত “শেরপুর জেলার অতীত ও eZ©gvb ” (১৯৯০), ইত্যাদি গ্রন্থে শেরআলী গাজীর নামে শেরপুরের নামকরণ হয়েছে এই মতের স্বীকৃতি  মেলে। ড. জীবন বল্লভ  চৌধুরী সাহিত্যরত্ন অবশ্য এই মতের সঙ্গে দ্বিমত  পোষণ করেন। তাঁর মতে শেরআলী গাজীর আবির্ভাবের আগে থেকেই এই পরগনা “দশকাহনিয়া সেরপুর” নামে পরিচিত ছিল। শ্রী হরচন্দ্র চৌধুরী  প্রণীত “শেরপুর বিবরণ” (১২৭৯) গ্রন্থের বক্তব্য এই  মতের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

 

     নবাব মুর্শিদ কুলি খাঁ শেরআলী গাজীর জয়গিরদারি বাতিল করে রামনাথ চৌধুরীকে শেরপুরের জয়গিরদারি অর্পনকরলে তার উত্তরসূরিরা শেরপুর পরগনার ভূম্যধিকারী (জমিদার)হন।

 

     ১৯৫২ সালে শেরপুর থানার ১৩টি ইউনিয়ন  বোর্ড গঠিত হয়। বর্তমানে এই উপজেলায় ইউনিয়ন বোডের সংখ্যা ১৪টি। ১৯৭৯ সালের ৪ জানুয়ারী শেরপুর সার্কেলকে মহকুমায় উন্নীত করা হয়। ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারী শেরপুর থানা শেরপুর সদর উপজেলায় পরিণত হয়।