মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

শেরপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্য

শেরপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্য

 

শেরপুর সদর উপজেলায় কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা বা নিদ©শণ রয়েছে যা আধুনিক সভ্যতার অনেক সাক্ষ্য বহন করে। নিম্নে শেরপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কিছু প্রতিষ্ঠানের তথ্য উল্লেখ করা হলো:-

   ১. শেরআলী গাজীর মাজার :শেরপুর সদর থেকে ১২ কিঃমিঃ উত্তরে বত©মান গাজীর খামারে শেরআলী গাজীর খামারবাড়ী ছিল। তাই এলাকার নাম গাজীর খামার। অজ্ঞাতবাসে চলে যাওয়ার পর তিনি এই গাজীর খামারে আশ্রয় নেন এবং এখানেই তিনি (শেরআলী গাজী) রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যান এবং সেখানেই তাকে করবস্থ করা হয়। বত©মানে এই কবরস্থানটি গাজীর মাজার বা গাজীর দরগা নামে পরিচিত । যেস্থানে তার মাজার অবস্থিত তার নাম গির্দাপাড়া ফকির বাড়ী।

 

   ২. হযরত শাহ কামালের মাজার : শেরপুরের অনতিদূরে বাস স্ট্যান্ডের পশ্চিমে কামারের চর রোডের পার্শ্বে হযরত শাহ কামালের মাজার অবস্থিত। আলাউদ্দিন হোসেন শাহের রাজত্বকালে দরবেশ শাহ কামাল ১৫০৩খ্রিঃ মুলতান থেকে বাংলাদেশে আগমন করেন এবং মেলান্দহ উপজেলার অন্তগত©দুরমুট নামক স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। দুরমুট গ্রামটি ব্রক্ষপুত্র নদের মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় কথিত আছে শাহকামাল তাঁর অলৌকিক ক্ষমতাবলে নদীর প্রবাহে অন্যদিকে সরিয়ে দেন। ১৬৩৯ খ্রিঃ শাহজাদা সুজার বাংলার শাসনভার গ্রহণের সময় মোগলরা শেরপুরের কসবায় বসবাস শুরু করেন এবং কাছারী স্থাপন করেন। কসবায় বসবাসকারী মোগলরা শাহকামালের অলৌকিক ক্ষমতার কথা জানতে পারেন এবং তাদের প্রশাসনিক কেন্দ্রের কাছাকাছি কাজী গলির পশ্চিমে তাঁকে কিছূ জায়গা দান করে বসবাস করার ব্যবস্থা করেছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁর মৃত্যুর পর  এখানে মাজার গড়ে উঠে যা শাহ কামালের মাজার বলে পরিচিতি লাভ করেছে।

    

    ৩. কোদাল ঝাড়া : শেরপুর শহরের অনতিদূরে শেরপুর পৌরসভার অন্তগত©কালিগঞ্জ ও মোবারকপুর গ্রামের মাঝামাঝি জায়গায় একটি টিলা আছে। এর নাম কোদাল ঝাড়া । কোদাল ঝাড়া টিলা নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে দু’টি মতবাদ আছে । একটি জনশ্রুতি আছে যে গড়জরিপার কালীদহ সাগর বা অন্য পরিখা খনন করার সময় অথবা নিকটবর্তী ইচলি বিল খনন করার সময় অসংখ্য শ্রমিক এখানে বসে বিশ্রাম করতো এবং কোদালগুলি ঝেড়ে পরিস্কার করতো এতে ঐ টিলার সৃষ্টি হয়েছে বলে নাম হয়েছে কোদাল ঝাড়া । ঐতিহাসিক আর একটি তথ্য এভাবে প্রচলিত যে, ১৮০৭ সালে একটি ম্যাজিস্ট্রট  কোট©স্থাপন করা হযেছিল এবং ঐখানে একটি সেনানিবাসও স্থাপন করা হয়েছিল । সৈন্যদের এবং পুলিশদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য পাশ্ববর্তী স্থানে পুকুর কেটে টিলা তৈরী করা হয়েছিল  । স্থানীয় লোকেরা এর নাম দেয় কোদাল ঝাড়া পাহাড় ।

 

    ৪. কসবা : শেরপুর পৌর এলাকায় অবস্থিত কসবা একটি ঐতিহাসিক স্থান। শাহজাদা সুজা ১৬৩৯ থ্রিঃ থেকে ১৬৬০ থ্রিঃ পয©ন্ত সুদীঘ©২১ বছর কাল স্থায়ী ভাবে অবস্থান করে বাংলার শাসনকায©পরিচালনা করেছিলেন । শেরপুর পরগণার প্রশাসনিক কেন্দ্র বিন্দু ছিল কসবা। মোগলরা এখানে কাচারী স্থাপন করেছিলেন । কসবা গ্রামটি আয়তনে বড় ছিল এবং ছোট ছোট এলাকায় বিভক্ত ও পৃথক পৃথক নাম ছিল । কালের গর্ভে মোগলদের স্মৃতি মুছে গেলেও এই নামগুলির মধ্যে মোগলদের শাসন কার্যের নিদশ©ন পরিস্ফুট হয়। যেমন মোগলবাড়ী, মোগলবাড়ী মসজিদ ও পুকুর, কাঠগড়, কাচারীপাড়া, কাজীগলি ও কাজীগলি মসজিদ, বাড়ীর চারদিকে জঙ্গলি পরিখা, কাঠগড় বা কাঠের কেল্লা ইত্যাদি ।

 

   ৫. মাইসাহেবা মসজিদ : নির্মানকাল আনুমানিক ২৫০ বrসর পূর্বে এটিও এ জেলার প্রাচীন নিদ©শনের একটি। বত©মানে মসজিদটি আধুনিক ভাবধারায় পূননির্মাণ করা হয়েছে। বক্রাকারে খিলারের ব্যবহার এবং সুউচ্চ মিনার ২টি সত্যি দৃষ্টিনন্দিত স্থাপত্যকলার আধুনিক পরিবত©ন লক্ষ্য করা যায় এই মসজিদটিতে।

 

   ৬. জি.কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ঃ নির্মাণকাল ১৯১৯সাল । প্রতিষ্ঠাতা জমিদার গোবিন্দ কুমার চৌধুরীর বৃটিশধারায় নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে অনেকগুলো পাঠদান এবং সুপ্রশস্ত জানালা রয়েছে। সমন্ত ভবনটিতে ফর্মের ব্যবহার এমনভাবে করা হয়েছে যে দৃষ্টি সকল স্থানেই সমান পড়ে, ইটের গাথুনী দিয়ে সমন্ত ভবনটি নির্মান করা হয়েছে।